শুক্রবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৮, ০৭:১৩ পূর্বাহ্ন

সাওয়াব ও গোনাহের ক্ষেত্রে যারা সমান অংশীদার

সাওয়াব ও গোনাহের ক্ষেত্রে যারা সমান অংশীদার

দুনিয়ার কাজ ও বিচারে ব্যক্তি বিশেষের সম্পদ ও পদ মর্যাদার কারণে তারতম্য হতে পারে। কিন্তু আল্লাহ তাআলা মানুষের কোনো কাজের প্রতিদান কিংবা পুরস্কার প্রদানে ব্যক্তি বিশেষে তারতম্য করেন না। বরং প্রত্যেক ব্যক্তিকেই তার কর্মকাণ্ড অনুযায়ী প্রতিদান দিয়ে থাকেন।এ ব্যাপারে হাদিসের বর্ণনায় এসেছে-

‘নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা তোমাদের চেহারা ও সম্পদের দিকে তাকান না, বরং তিনি তোমাদের অন্তর ও কর্মের দিকে লক্ষ্য করেন।” (মুসলিম)

মানুষের অন্তরের দিকে লক্ষ্য করার অর্থই হলো লোকটি কি উদ্দেশ্যে বা কোন নিয়তে কাজটি সম্পাদন করে থাকে। এ জন্য ব্যক্তির প্রতিটি কাজই তার নিয়ত বা লক্ষ্য-উদ্দেশ্য অনুযায়ী মর্যাদা লাভ করবে। তাইতো ভালো কাজ নিয়ত করলেই সাওয়াব নির্ধারিত হয়ে যায়। হাদিসে এসেছে-

‘যে ব্যক্তি ভালো কাজের পরিকল্পনা করল, কিন্তু বাস্তবে সে কাজ করতে পারল না, সে ব্যক্তির জন্য সাওয়াব লেখা হবে।’ (মুসলিম)

ভালো কাজের পরিকল্পনা গ্রহণে কিংবা ইচ্ছা পোষণ করায় যেভাবে কল্যাণ ও সাওয়াব প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। আবার অন্যায় কাজের ইচ্ছা পোষণে অন্যায়কারীর মতো গোনাহগার হয়ে যায়, তা প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একটি হাদিসে সুস্পষ্টভাবে ওঠে এসেছে-

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-

১. এক ব্যক্তিকে আল্লাহ তাআলা সম্পদ ও ইলম (জ্ঞান) দান করেছে। অতঃপর সে ব্যক্তি তার জ্ঞান দ্বারা আমল করে এবং সম্পদ আল্লাহর পথে খরচ করে;

২. আরেক ব্যক্তিকে আল্লাহ তাআলা শুধু ইলম দান করেছে কিন্তু তাকে সম্পদ দেননি। অতঃপর সে ব্যক্তি তার অভিপ্রায় ব্যক্ত করে বলেন, আমার যদি এ (প্রথম) ব্যক্তির মতো সম্পদ থাকত, তবে আমি ওই ব্যক্তির মতোই কাজ করতাম। অর্থাৎ জ্ঞান দ্বারা আমল এবং সম্পদ আল্লাহ পথে ব্যয় করতাম।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, সাওয়াবের ক্ষেত্রে তারা উভয়েই সমান।

৩. এক ব্যক্তিকে আল্লাহ তাআলা সম্পদ দান করেছেন, কিন্তু তাকে ‘ইলম দেননি। অতঃপর সে ব্যক্তি তার সম্পদকে অন্যায় পথে খরচ করে;

৪. আরেক ব্যক্তিকে আল্লাহ তাআলা সম্পদ ও ইলম কোনটিই দান করেননি। অতঃপর সে ব্যক্তি বলে আমার যদি এ (তৃতীয়) ব্যক্তির মত সম্পদ থাকত, তাহলে আমিও ওই ব্যক্তির মতোই কাজ (অন্যায় পথে সম্পদ ব্যয়) করতাম।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘গোনাহের ক্ষেত্রেও তারা উভয়ে সমান।’ (ইবনে মাজাহ)

মানুষের প্রতিটি কাজের ভালো ও মন্দ তার নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। নিয়ত যদি ভালো হয় তবে সফলতা সুনিশ্চিত। আর নিয়ত যদি খারাপ হয় তবে তার ধ্বংসও সুনিশ্চিত। তাই মুমিন মুসলমানের দুনিয়ার প্রতিটি কাজেই নিয়তের পরিশুদ্ধতা অপরিহার্য।

মনে রাখা জরুরি

আল্লাহ তাআলা বান্দাকে তার কর্মের স্বাধীনতা দান করেছেন। তাই কর্মের এ স্বাধীনতাকে ভালো ও কল্যাণের কাজে পরিচালিত করার পাশাপাশি অন্তরে ভালো কাজের ইচ্ছা পোষণ করাও জরুরি। অন্যায় কাজ ও অন্যায় ইচ্ছা পোষণ করা থেকে বিরত থাকাও জরুরি।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে পরিশুদ্ধ নিয়তের মাধ্যমে সাওয়াব বা কল্যাণ লাভের তাওফিক দান করুন। অন্যায় কাজ ও অন্যায় কাজের ইচ্ছা পোষণ থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। প্রতিদান কিংবা সফলতা লাভে হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

লাইভ ভিডিও

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন




© All rights reserved © 2018 Education News.
Design & Developed BY M/S PRINCE ENTERPRISE