বৃহস্পতিবার, ২০ Sep ২০১৮, ০৩:২৬ am

ম্যাচিউরড হবার ১০ লক্ষণ

ম্যাচিউরড হবার ১০ লক্ষণ

একটা নির্দিষ্ট সময়ের পর প্রত্যেক মানুষকেই তার অাপনজনদের ভার নিতে হয়। চাইলেই কেউ তখন তার দায়িত্ব এড়িয়ে চলতে পারেনা। মেনে নিতে হয় জীবনের কিছু অপ্রিয় সত্যকে। ত্যাগ করতে হয় হাসি মুখে কিছু কিছু প্রিয় জিনিষকে। সৃষ্টির অাদিলগ্ন থেকে চলে অাসছে এই নিয়ম। অাপনি অামি চাইলেই পারবোনা এই নিয়মের ব্যতিক্রম করতে। মনে হয় এটা যেন একটা প্রকৃতি প্রদত্ত নিয়ম এবং অাপনা অাপনিই এটা প্রত্যেক মানুষের জীবনে চলে অাসে। তাই অাপনি চাইলেই পারবেন না এই নিয়মের ব্যতিক্রম করতে। অাপনাকে অবশ্যয় মেনে নিতে হবে এবং চলতে হবে প্রকৃতি প্রদত্ত এই অমোঘ নিয়মে। অাজ জানবো ১০ টা লক্ষণ সম্পর্কে যা অাপনার মধ্যে দেখা দিলে বুঝতে হবে অাপনিও এবার প্রস্তুত অাপনার প্রিয়জনদের ভার নিতে।

০১। পরিবর্তন: ইংরেজিতে একটা কথা অাছে, “Everybody can give advice, but can all they obey it? ” যখন অাপনি এই কথার অর্থটা সম্পূর্ণ রুপে বুঝতে পারবেন এবং এটা অনুযায়ী চলতে পারবেন। অর্থাৎ যখন অাপনি অন্যকে পরিবর্তন করার পরিবর্তে নিজেকে পরিবর্তন করা শুরু করবেন।

০২। অতিরিক্ত প্রত্যাশা না করা: প্রত্যেক সম্পর্কের পেছনে একটা প্রত্যাশা থাকে। অার সম্পর্ক থেকে অামাদের প্রত্যাশার কোন কমতি থাকে না। অানম্যাচিউরিটির প্রধান একটা লক্ষণ হলো অাতিরিক্ত অাশা করা। তাই যেদিন অাপনি বুঝবেন যে, সম্পর্ক থেকে অাপনি অতিরিক্ত প্রত্যাশা করা ছেড়ে দিতে পেরেছেন।

০৩। ইতিবাচক বৈশিষ্ট খুজে পাওয়া: একটা প্রবাদ অাছে,”দৃষ্টিভঙ্গি বদলান,বদলে যাবে সব”। মানুষের বদঅভ্যাস গুলোর মধ্যে একটা হলো সব কিছুর মধ্যে খুত অর্থাৎ খারাপ কিছু খুজে বের করা। তাই অাপনি যেদিন অাপনার পারিপাশ্বিক সব কিছুর মধ্যে থেকে ইতিবাচক বৈশিষ্ট খুঁজে পাবেন।

০৪। সবাই ঠিক: একটা সময় অামরা সবাই ভাবি, অামি যেটা করছি সেটা শুধু ঠিক বাকি সব ভুল। ও কেন এমন করছে, কেন সে সেখানে গেলনা, কেন সে ওখানে গেল? এভাবে অামরা মেতে উঠি অন্যের সমালোচনায়। কিন্তু যেদিন অাপনি বুঝতে পারবেন যে, সবাই সবার জায়গায় ঠিক।

০৫। বন্ধ করবেন তুলনা করা: অাজ যদি অামি ওর জায়গায় থাকতাম তাহলে, অাহ! কি সুন্দর ই না হতো। এভাবে নিজেকে অন্যের সাথে তুলনা করলে শুধু নিজের দুঃখ বাড়ে বৈ কমে না। তাই অাপনি যবে থেকে নিজেকে তুলনা করা বন্ধ করবেন।

০৬। নিজের জন্যই সব: যেদিন অাপনি বুঝতে পারবেন যে, জীবনের এতটা বসন্ত পার করে এসেছি শুধুমাত্র নিজের সুখের জন্যই।

০৭। বিজ্ঞাপন বন্ধ করা: পৃথিবীর প্রত্যেক ব্যাক্তিই চায় তাকে সবায় যেন জানে, চেনে, দেখে। তার জন্য সবায় শুরু করে একে অন্যের কাছে বিভিন্ন্য ভাবে জাহির করা, বিজ্ঞাপন দেয়া। শুরু করে পৃথিবীর কাছে নিজেকে জানানোর জন্য বিজ্ঞাপন দেয়া। যেদিন অাপনি পৃথিবীর কাছে নিজেকে জাহির করা বন্ধ করবেন।

০৮। সমর্থনের প্রয়োজন না পড়া: মানুষ কোন কাজ করার অাগে চায় তাকে কেউ সমর্থন করুক। যাতে সে কাজটা খুশি মনেই করতে পারে, কারণ সে জানে যে তার পেছনে কেউ অাছে। কিন্তু অাপনি যখন দেখবেন কোন কাজ করার জন্য অাপনার কোন সমর্থনের প্রয়োজন পড়ছে না

০৯। নিজ সুখি: যখন অাপনি অাপনার কৃত কাজ করার পর বুঝতে পারবেন যে, অাপনি এখন সুখি।

১০। প্রয়োজন ও চাওয়ার পার্থক্য বুঝতে পারা: জীবনের একটা সময়ে অামরা ভুলে যায় বা বুঝতে পারিনা যে, প্রয়োজন ও চাওয়া এক না।অামরা দুটোকেই পাওয়ার জন্য পাগল হয়ে উঠি। কিন্তু অাপনি যখন প্রয়োজন ও চাওয়ার মাঝে পার্থক্য বুঝতে পারবেন এবং চাওয়া কে ছেড়ে দিতে পারবেন বুঝবেন ম্যাচিউরিটির প্রভাব অাপনার উপর পড়েছে।

অাসলে ম্যাচিউরিটির কোন লক্ষণ বলে বোঝানো সম্ভব না। এটা প্রকৃতি প্রদত্ত একটা ব্যাপার। কখন কার মাঝে এটা ভর করবে তা অাসলে স্রষ্টা ছাড়ো কারো পক্ষেই বলা সম্ভব না। উপরোক্ত লেখাটা শুধুই পাঠকদের নিজেদের সম্পর্কে বোঝার সুবিধার জন্য লেখা। সচেতনতা সৃষ্টিই লেখকের প্রধান লক্ষ্য। তাই অাসুন সবায় ম্যাচিউরিটিকে বোঝা না ভেবে এর ভালো টাকে সর্বোচ্চ ব্যবহার করি।

বন্ধুদের সাথে লাইক ও শেয়ার করতে পারো

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

লাইভ ভিডিও




বিজ্ঞাপন

Copyright © Education News 2018.
Design & Developed BY M/S PRINCE ENTERPRISE