বৃহস্পতিবার, ২০ Sep ২০১৮, ০৩:২৬ am

ভুয়া ও মানহীন ক্লিনিক বন্ধ হোক

ভুয়া ও মানহীন ক্লিনিক বন্ধ হোক

মোহাম্মদপুরের ১৪ ক্লিনিক বন্ধের যে নির্দেশ এসেছে হাইকোর্ট থেকে তা অত্যন্ত সময়োপযোগী ও অভিনন্দনযোগ্য। সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিপরীতে মোহাম্মদপুরের বাবর রোড ও খিলজি রোডের অবৈধ/লাইসেন্সবিহীন ১৪ ক্লিনিক ও হাসপাতাল দ্রুত বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ও র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে এই নির্দেশ বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো হলো- বিডিএম হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়গনস্টিক কপ্লেক্স, সেবিকা জেনারেল হাসপাতাল, জনসেবা নার্সিং হোম অ্যান্ড ডায়গনস্টিক সেন্টার, লাইফ কেয়ার নার্সিং হোম, রয়্যাল মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতাল, নবাব সিরাজউদ-দৌলা অ্যান্ড ড্রাগ এডিশন হাসপাতাল, মোনোমিতা মেন্টাল হাসপাতাল, প্লাজমা মেডিকেল সার্ভিস অ্যান্ড ক্লিনিক, শেফা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়গনস্টিক সেন্টার, ইসলামিয়া মেন্টাল হাসপাতাল, ক্রিসেন্ট হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়গনস্টিক কমপ্লেক্স, মক্কা-মদিনা জেনারেল হাসপাতাল, নিউ ওয়েল কেয়ার হাসপাতাল ও বাংলাদেশ ট্রমা স্পেশালাইজড হাসপাতাল।

 

স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধের নির্দেশের পাশাপাশি রুলও জারি করেছেন হাইকোর্ট। রুলে লাইসেন্সহীন হাসপাতাল পরিচালনা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং যারা এগুলো পরিচালনা করছেন তাদের বিরুদ্ধে কেন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তা জানতে চেয়েছেন আদালত। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদফরের মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য সচিব, র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ কমিশনার, মোহাম্মাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ ৮ জনকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদন সংযুক্ত করে দায়ের করা রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার হাইকোর্টের বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ।

চিকিৎসা মানুষের মৌলিক অধিকার হলেও দেশের অধিকাংশ মানুষ এখনো এ সেবা থেকে বঞ্চিত। প্রয়োজনীয় চিকিৎসকের অভাব, নার্স ও স্বাস্থ্য সহকারী না থাকা, চিকিৎসা সরঞ্জামাদির অভাব- এসব কারণে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। দেশের বেশিরভাগ উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ডাক্তার নেই। ডাক্তারদের সেখানে পোস্টিং দেয়া হলেও তারা থেকে যেতে চান রাজধানীতেই।

এছাড়া প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিও নেই অনেক হাসপাতালে। বলা হচ্ছে, প্রয়োজনীয় সংখ্যক ডাক্তার না থাকায় সবচেয়ে সঙ্কটে পড়েছে স্বাস্থ্য খাত। রোগব্যাধি হলে ওষুধ খেয়ে জীবন রক্ষা করে মানুষ। কিন্তু সেই ওষুধেও ভেজাল। মানহীন ও ভেজাল ওষুধ খেয়ে রোগ সারার বদলে আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া রয়েছে ভুয়া ডাক্তারের দৌরাত্ম্য । চিকিৎসা ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়াতেও জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে। জনস্বার্থে এসব ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে জরুরি ভিত্তিতে।

সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতাল ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবার মান বৃদ্ধির ওপর স্বাস্থ্য খাতের অগ্রগতি নির্ভর করে। এ কারণে ভুয়া ডিগ্রি, পদবি ব্যবহারকারী এবং ভুল চিকিৎসা প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে এ ব্যাপারে কার্যকর ভূমিকা পালন করাও জরুরি। ভেজাল ও মানহীন ওষুধের ব্যাপারেও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। চিকিৎসা এখন সেবা নয়, বাণিজ্য। যেখানে-সেখানে গজিয়ে উঠছে হাসপাতাল ক্লিনিক। বেশিরভাগ ডাক্তার এখন সরকারি হাসপাতালে সময় দেয়ার চেয়ে প্রাইভেট প্র্যাকটিসে অধিক মনোযোগী। এ অবস্থার অবসান হওয়া প্রয়োজন।

ডাক্তারদের গ্রামে থাকার মানসিকতা থাকতে হবে। এছাড়া ওষুধের মূল্য মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে হবে। মনে রাখা প্রয়োজন স্বাস্থ্যসেবার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত নিয়ে অবহেলা করার কোনো সুযোগ নেই। মানুষের এ মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা একটি গণতান্ত্রিক সরকারের অন্যতম দায়িত্ব ও কর্তব্য।

বন্ধুদের সাথে লাইক ও শেয়ার করতে পারো

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

লাইভ ভিডিও




বিজ্ঞাপন

Copyright © Education News 2018.
Design & Developed BY M/S PRINCE ENTERPRISE