প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে বদ্ধ পরিকর ইউএনও নাহিদা বারিক

বিল্লাল হোসেন রবিন : নাহিদা বারিক। নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)। সদা হাস্যেজ্জল প্রাণবন্ত একজন মানুষ। কাজ ছাড়া যেনো কিছুই বোঝেন না। দাপ্তরিক কাজ আট ঘন্টার হলেও তিনি দুই ঘন্টা বেশি কাজ করার চেষ্টা করেন। ছুটির দিনেও চলে যান কোন না কোন সচেতনামূলক সামাজিক অনুষ্ঠানে। বাল্য বিয়ে, যৌনহয়রানী, ইভটিজিং কানে আসলে ছুটে যান ঘটনাস্থলে। তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নেন। 

বাল্যবিয়ে বন্ধ করে একাধিক শিক্ষার্থীর লেখা-পড়ার দায়িত্বও নিয়েছেন তিনি। মানসম্পন্ন শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে আগাম সংবাদ ছাড়াই ঢুকে পড়েন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। কুশল বিনিময় করেন শিক্ষক, শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে। জানতে চান তাদের সমস্যার কথা। 

প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন তিনি। মোটকথা বর্তমান কর্মস্থলে দায়িত্ব গ্রহনের মাত্র ১০ মাসে তিনি পাল্টে দিয়েছেন সদর উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার চালচিত্র। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে জেলার পাঁচ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মধ্যে শিক্ষাখাতে অবদানের জন্য শ্রেষ্ঠ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। মাদক, বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং ও যৌনহয়রানীর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে তার অবিরাম পথচলা প্রসংশিত হচ্ছে।

নাহিদা বারিক বলেন, পদ্ধতি পরিবর্তন করে নয় বরং পদ্ধতিকে দুর্নীতিমুক্ত করে তা থেকে আশানুরূপ সুফল লাভ করতে হবে। প্রাথমিক শিক্ষাকে গুনগত মানের দিক থেকে উন্নত করতে পারলেই জাতীয় জীবনে এগিয়ে চলা সহজ হবে। তাই আমাদের আগামী দিনের শ্লোগান হবে-‘শিক্ষার পরিমানগত নয় গুণগত বৃদ্ধি করা’।

মান সম্পন্ন শিক্ষা বাস্তবায়নে যত পদক্ষেপ

মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নে শ্রেণিকক্ষে ফলপ্রসু ও কার্যকরী পাঠদান বিষয়ক কর্মশালার আয়োজনের পাশাপাশি উপজেলার প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করছেন তিনি। এছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মানোন্নয়ন ও বিদ্যালয়ের পরিবেশ সুন্দর করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনুরোধ এবং প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে করণীয় সম্পর্কে জানিয়ে দিচ্ছেন। 

কাশীপুর ইউনিয়নের গোয়ালবন্ধ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪শ’ শিক্ষার্থীর মাঝে স্কুল ব্যাগ বিতরণ করেছেন। পর্যায়ক্রমে উপজেলার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্কুল ব্যাগ, খাতা-কলমসহ অন্যান্য শিক্ষা সামগ্রী প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। এছাড়া ‘মায়ের দেয়া খাবার খাই, মনের আনন্দে স্কুলে যাই’ এই জন্য উপজেলার ১২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে টিফিন বক্স বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছেন। 

ইতিমধ্যে এনায়েত নগর ইউনিয়নের ৬৭নং ধর্মগঞ্জ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭৫০ জন শিক্ষার্থীর মাঝে মানসম্মত টিফিন বক্স বিতরণ করেছেন। এছাড়া হরিজন সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ কার্যক্রম চলমান রেখেছেন। এছাড়া হাতঘড়ি ও শিক্ষা উপকরন বিতরণ করেছেন তাদের মাঝে। 

বৃষ্টি যাতে শিক্ষার্থীর স্কুলে আসায় বাধা হতে না পারে এজন্য উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল আলীরটেক ইউনিয়নের ক্রোকেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাতা বিতরণ করেছেন তিনি। ১৫টি বিদ্যালয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী বেঞ্চ প্রদান করা হয়েছে। এবং এই কার্যক্রম চলমান রেখেছেন।

শিক্ষার্থীদের পড়ার অভ্যাস তৈরীতে পদক্ষেপ

শিক্ষার্থীদের পড়ার অভ্যাস তৈরীর উদ্দেশ্যে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিনি লাইব্রেরি কক্ষ স্থাপনের কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। কারণ সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের মধ্যে মিনি লাইব্রেরী কক্ষ অন্যতম। ইতিমধ্যে ভ্রাম্যমান লাইব্রেরির মাধ্যমে বিদ্যালয়ের শিশুদের পাঠোপযোগী বিভিন্ন গল্পের বই ঘুরে ঘুরে বিতরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। 

এগিয়ে চলছে টেলিভিশনের শিশুদের জনপ্রিয় শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান সিসিমপুর কক্ষ স্থাপনের কার্যক্রম। বিভিন্ন স্কুলে আয়োজন করা হচ্ছে বিতর্ক প্রতিযোগিতা। শিশুদের ছোটবেলা থেকেই আদর্শ, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পরিচিত করিয়ে দিতে উপজেলার প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সততা স্টোর’ স্থাপন কার্যক্রম হাতে নিয়েছেন। কয়েকটি স্কুলে এই কার্যক্রম উদ্বোধনও করা হয়েছে।

স্কুলের শিশুদের মনোজগতের পরিপূর্ণ বিকালে পড়ালেখার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রম হিসেবে আন্ত:প্রাথমিক বিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতার উদ্যোগ ও আয়োজন করছেন তিনি।

বাবুরাইল বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১৩নং নলুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ড উদ্বোধন করেছেন। বিদ্যালয়ের ভর্তি তথ্য, বিভিন্ন নির্দেশনামূলক তথ্য ও নোটিশ এই ডিজিটাল বোর্ডে প্রদর্শিত হবে। এবং পর্যাক্রমে অন্যান্য বিদ্যালয়গুলোতে এ কার্যক্রম চালু করা হবে। বিজ্ঞান বিষয়ে শিশুদের আগ্রহ বাড়াতে এবং তাদের উদ্ভাবনী শক্তিবৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন স্কুলে বিজ্ঞান মেলার আয়োজন করছেন।

মা ও বাবার কাছে সন্তানের চিঠি লেখা প্রতিযোগিতা এবং শিক্ষকদের আন্ত:ক্রীড়া ও সাস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন এবং পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের লেখা-পড়ায় উৎসাহ দিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে ইউএনও বৃত্তি চালু করা হয়েছে। বৃত্তিপ্রাপ্ত প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে  ৫ হাজার টাকা করে প্রদান করা হবে।

শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধকরণ 

শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে এবং মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সম্পর্কে জানতে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মুক্তিযুদ্ধ কর্ণার স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছেন এবং বেশ কয়েকটি স্কুলে মুক্তিযুদ্ধ কর্ণার উদ্বোধন করা হয়েছে। এছাড়া জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শৈশব, কৈশর, রাজনৈতিক তথ্য সমগ্র ও জীবন সম্পর্কে জানতে বিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু বুক কর্ণার এবং বঙ্গবন্ধু প্রতিকৃতি স্থাপনের কার্যক্রমও এগিয়ে যাচ্ছে। 

একইভাবে বাংলার বরেণ্য কবি-সাহিত্যিকদের জীবন বৃত্তান্ত সম্পর্কে জানতে কবি-সাহিত্যিক কর্ণার স্থাপনের কার্যক্রমও গ্রহণ করেছেন তিনি এবং কয়েকটি স্কুলে তা উদ্বোধনও করা করা হয়েছে। বাবুরাইল বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অভিভাবকদের বসার জন্য ছাউনী করে দিয়েছেন। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শতভাগ শিশু ভর্তি এবং শিশুদের ঝড়ে পড়া রোধকল্পে ‘মা সমাবেশে’র উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তিনি।

বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার স্থাপনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। যেখানে শহীদ মিনার স্থাপনের পর্যাপ্ত জায়গা নাই সেখানে স্টীল স্টার্কচারের শহীদ মিনার নির্মানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্যও আয়োজন

প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা যাতে তাদের লেখা-পড়া বন্ধ করে না দেয় সে জন্য উপজেলার ১২১টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও অভিভাবকদের নিয়ে অবহিতকর সভা করেছেন। এবং যে সকল প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা এখনো প্রতিবন্ধী শিক্ষা ভাতা পাচ্ছে না তাদের তালিকা তৈরী করে দ্রুত তাদের ভাতার আওতায় আনার জন্য উপজেলা সমাজসেবা অফিসারকে নির্দেশনা দিয়েছেন। এছাড়া প্রতিবন্ধী শিশুদের বিনোদন ও শারীরিক ব্যায়ামের জন্য একটি জোন তৈরীর কাজ চলমান রয়েছে। 

খেলাধূলার ব্যবস্থা

সুস্থ্য দেহ সুস্থ্য মন, গড়ব মিলে স্বপ্ন ভুবন-এই শ্লোগানকে সামনে রেখে উপেজেলার প্রতিটি সরকারি বিদ্যালয়ে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে যে সকল স্কুলে খেলার মাঠ নেই সেই সকল স্কুলের ভেতর ইনডোর গেমস কক্ষ চালুর কার্যক্রম শুরু করেছেন তিনি। পড়া-শোনার পাশপাশি শিশুরা এখানে ক্যারাম, দাবা প্রভৃতি ইনডোর গেমসের মাধ্যমে নির্মল বিনোদন পাবে। 

সদর উপজেলায় শিক্ষার উন্নয়নে সরকারী বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি নিজস্ব নানা উদ্যোগও নিয়েছেন নাহিদা বারিক। খেলাধূলা শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করতে ‘বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্ণামেন্ট ২০১৯ সম্পন্ন করেছেন।

শিশুদের মৌসুমী পুরস্কার প্রতিযোগিতা ২০১৯ (জ্ঞান জিজ্ঞাসা, উপস্থিত বিতর্ক, দেশাত্ববোধক জারিগান, দলীয় লোক নৃত্য, দেয়ালিকা ও দলীয় অভিনয়) ৬টি ইভেন্টে প্রতিযোগিতা অনুুষ্ঠিত হয়েছে।

উপজেলা পর্যায়ে শাপলা কাব এওয়ার্ড ও প্রেসিডেন্ট স্কাউট এওয়ার্ড মূল্যায়ন অনুষ্ঠিত হয়েছে। যে সকল স্কুলে প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত কাব শিক্ষক নেই ে সসকল স্কুল হতে একজন করে শিক্ষকদের স্কাউটিং বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন কোর্স সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রতিটি বিদ্যালয়ে নিয়মিত প্যাক মিটিং নিশ্চিতকরণে তদারকি অব্যাহত রাখা হয়েছে।

শিশুদের জন্য স্বাস্থ্যবার্তা

তিনি বলেন, শিশুর সুস্বাস্থ্য গঠনে পুষ্টিকর খাবারের গুরুত্ব অনেক। শিশুকে উন্নত ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে রাখতে হবে। তবেই শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ সুষ্ঠু হবে। এজন্য তিনি উপজেলার ১২১টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৬ হাজার শিক্ষার্থীদের মাঝে নিজের সম্পাদনায় স্বাস্থ্য বার্তা নামে একটি বই সরবরাহের কাজ চলমান রেখেছেন। 

বইটিতে শিশুর মানসিক বিকাশে পুষ্টিগুন সম্পন্ন খাবার, নিরাপদ খাদ্যাভ্যাস, রোগ প্রতিরোধক খাবার, সুস্থ্য থাকতে করণীয়, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা, জীবাণুমুক্ত জীবন গড়ার বর্ণনাসহ নানা বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। 

বিদ্যালয়ে ফুলের বাগান

‘আমার বিদ্যালয় আমি সাজাই, জাতি গঠনে কাজ করে যাই’ এই শ্লোগানে ১২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপন কর্মসুচি পালন করা হয়। এরই অংশ হিসেবে গতমাসে সিদ্ধিরগঞ্জে ৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফলজ, বনজ ও ঔষধী বৃক্ষ রোপনের মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আঙ্গিনায় বাগান তৈরী প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। 

এছাড়া বৃক্ষরোপন কার্যক্রমে স্বপ্ন বৃক্ষ নামক একটি প্রতীকি বৃক্ষ করা হয়। যেখানে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত স্বপ্ন এবং তাদের আকাংখা প্রকাশ করে।

ইউএনও’র বক্তব্য

পরিশেষে নাহিদা বারিক বলেন, শুধুমাত্র পুথিগত বিদ্যা কিংবা জিপিএ-৫ পেয়ে একজন শিক্ষার্থীর মেধা বিকাশ সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, আমাদের শিশু কিশোরদের মেধা বিকাশের জন্য শিক্ষার পাশাপাশি সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে চর্চা বাড়াতে হবে। 

প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যদি আমরা শিশু কিশোরদের মধ্যে সাহিত্য, সংস্কৃতি, চারুকলা, হস্তশিল্প, আবৃত্তি ও নৃত্যের চর্চা বাড়াতে পারি, তাহলে একজন শিশুর মেধা-মননের বিকাশ ঘটবে এবং এ শিশুটি একজন সংস্কৃতিবান মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here